বাংলাদেশে খ্রীষ্টান উত্তরাধিকারী আইনের বৈশিষ্ট্য

১৯২৫ খ্রীষ্টাব্দের খ্রীষ্টান উত্তরাধিকার আইনটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর নির্ভরশীল ঃ
১. স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বন্টনের বেলায় কোন পার্থক্য মানা হয় না। সম্পত্তি বলতে তাকে বুঝি যা ভােগ করা যায়, পরিবর্তন করা যায় ও হস্তান্তর করা যায়। এই নিরিখে আলো, বাতাস সম্পত্তি নয় । গাড়ী, বাড়ী, জমা-জমি সম্পত্তি । সম্পত্তি দুই রকম হতে পারে, যথাঃ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি। যা নড়তে চড়তে পারে না এবং নড়লে চড়লে অন্য কিছু হয়ে যায় তাকে স্থাবর সম্পত্তি বলে। অন্য সব কিছু অস্থাবর সম্পত্তি।
২. কোন মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রে ছেলে এবং মেয়ে একই মর্যাদার অধিকারী হয় এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে সমান অংশ লাভ করে । অর্থাৎ ছেলে মেয়ে সমান অংশে সম্পত্তি পায়।
৩. সরাসরি নিম্নবর্তী ওয়ারিশ থাকলে উর্ধ্ববর্তী কেউ সম্পদ পাবে না।
৪. সম্পদ বন্টনে স্বামী/স্ত্রী অগ্রাধিকার পাবে।
৫. সরাসরি নিম্নবতী সন্তান থাকলে স্বামী/স্ত্রী ১/৩ অংশ পাবে, নিম্নবর্তী না থাকলে ১/২ অংশ পাবে। নি¤œবর্তী/উর্ধ্ববর্তী আত্মীয় না থাকলে স্বামী/স্ত্রী পুরো অংশ পাবে।
৬. স্বামী/স্ত্রী বা সগোত্রের কেউ না থাকলে সমগোত্রের আত্মীয় সম্পত্তি পাবে।
৭. স্বামী/স্ত্রী সমগোত্রীয় কেউ না থাকলে তার সম্পত্তি সরকার বরাবরে বাজেয়াপ্ত হবে।
১০. মৃতের সন্তান না থাকলে স্বামী/স্ত্রীকে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি মৃতের পিতা পাবে। পিতাও জীবিত না
থাকলে মাতা এবং ভাইবোন সমান অংশে সম্পদ পাবে।
১১. ভাই বোন বেঁচে না থাকলে তাদের সন্তানগণ অংশ পাবে।
১২. পিতা, ভাই-বোন বা ভাই-বোনের সন্তানও না থাকলে মাতা সম্পূর্ন অংশ পাবে । অনুরূপভাবে কেবল পিতা থাকলে সেই সম্পূর্ণ অংশ পাবে।
১৩. ধর্মান্তরের জন্য উত্তরাধিকারিত্ব থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না।
১৪. কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ভাগ বন্টনের সময় আপন ও বৈমাত্রেয় ভাই বা বোন সমান মর্যাদার উত্তরাধিকারী হবে। অর্থাৎ সৎ ও আপন ভাই-বোন সমান অংশে সম্পত্তি লাভ করবে। অর্থাৎ খ্রীষ্টান উত্তরাধিকার আইনে অর্ধরক্ত ও পূর্ণরক্তের সর্ম্পকের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হয় না।
১৫. কোন খ্রীষ্টান ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি তার কোন সন্তান তার স্ত্রীর গর্ভে থাকে তবে সে সন্তান জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হলে তার পিতার সম্পত্তিতে একজন উত্তরাধিকারী বলে বিবেচিত হবে। তবে অন্য কোন ভাই-বোন থাকলে সে তাদের সাথে একই মর্যাদায় সমান অংশে পিতামাতার সম্পত্তি থেকে লাভ করবে ।
১৬. অবৈধ সন্তান উত্তরাধিকারীত্ব থেকে বঞ্চিত হবে ।
১৭. দত্তক সন্তান দত্তকী পিতার সম্পত্তির ওয়ারিশ হবে না।
১৮. কোন মৃত ব্যক্তি যদি তার সম্পত্তি উইল করে যায় তবে তা বিলি-বন্টন করা যাবে না। তবে উইল যদি আইনগত ত্রুটির কারণে অকার্যকর হয় তবে সেই সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীদের অধিকার জন্মাবে। পরিমাণ নিয়ে উইল করার ক্ষেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা নেই। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি তার সম্পূর্ণ সম্পত্তি উইল করে যেতে পারেন। যদি উইলে আংশিক ত্রুটি থাকে তবে উইলের যেটুকুতে শুদ্ধতা আছে সেটুকু কার্যকর হবে। যেসব জমিজমা বা সম্পত্তির ব্যাপারে উইল করা হয় না, সেগুলো বরাবরের মতই সাকসেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বন্টন হয়।
সংগ্রহেঃ চন্দন রোজারিও